দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

শিশু সিটবেল্ট পরতে অস্বীকৃতি জানানোয় কানাডায় একটি উড়োজাহাজের ফ্লাইট বাতিলের ঘটনায় শিশুদের উড়োজাহাজ ভ্রমণের নিরাপত্তা ও অভিভাবকদের দায়িত্ব নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
গত ৬ আগস্ট কানাডার ভিক্টোরিয়া থেকে টরন্টোর উদ্দেশে যাত্রার প্রস্তুতি নিচ্ছিল পোর্টার এয়ারলাইনসের একটি উড়োজাহাজ। এ সময় এক শিশু নিজের আসনে দাঁড়িয়ে ছিল এবং সিটবেল্ট বাঁধতে রাজি হচ্ছিল না। বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেও সফল না হওয়ায় উড়োজাহাজটি টার্মিনালে ফিরে যায় বলে জানিয়েছে বিমান সংস্থাটি।
পোর্টার এয়ারলাইনস জানায়, শিশুটির সঙ্গে থাকা অভিভাবক ও উড়োজাহাজের কর্মীরা তাকে সিটবেল্ট পরানোর চেষ্টা করেও সফল হননি। নিরাপত্তাহীন অবস্থায় উড়োজাহাজটি উড্ডয়ন করতে না পারায় দুই যাত্রীকে নিয়ে টার্মিনালে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন কর্মীরা।
এর ফলে উড়োজাহাজটির যাত্রা দীর্ঘ সময় পিছিয়ে যায়। মধ্যরাতের পর রানওয়ে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ওই ফ্লাইট আর উড্ডয়ন করতে পারেনি। পরে যাত্রীদের পরদিনের একটি ফ্লাইটে পুনরায় আসন দেওয়া হয়।
শিশুদের উড়োজাহাজ ভ্রমণের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ লিয়া তুসো বলেন, ‘যাত্রীদের পাশাপাশি শিশুটির নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই উড়োজাহাজের কর্মীরা ফ্লাইট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’
তার মতে, সিটবেল্ট ছাড়া শিশু ঝাঁকুনির সময় ছিটকে গিয়ে অন্য যাত্রীদের জন্য বিপদের কারণ হতে পারে, বিশেষ করে উড্ডয়ন ও অবতরণের সময়।
ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে নানা ধরনের আলোচনা। কেউ কেউ মনে করছেন, অভিভাবকদের সন্তানদের আচরণের ক্ষেত্রে আরও কঠোর হওয়া উচিত ছিল। আবার অনেকে বলছেন, উড়োজাহাজে ভ্রমণের সময় কোনো কোনো শিশু ভয় পেতে পারে এবং সে ক্ষেত্রে শিশুর আচরণকে শুধু দুষ্টুমি হিসেবে দেখা ঠিক নয়।
ফ্লাইটটির এক যাত্রী আরিয়েহ কোজুচ জানান, শিশুটিকে বেপরোয়া মনে হয়নি; বরং তাকে ভীত মনে হচ্ছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটি বারবার নিজের আসনের নিচে লুকাচ্ছিল। তাকে জোর করে সিটবেল্ট পরানোর চেষ্টা করলে সে নিচ দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছিল।
তবে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, একজন শিশুর কারণে কেন পুরো ফ্লাইটের যাত্রা বাতিল করতে হলো। তাদের মতে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে শুধু ওই শিশু ও তার অভিভাবককে উড়োজাহাজ থেকে নামিয়ে দেওয়া যেত।
এ ধরনের ঘটনা অবশ্য এবারই প্রথম নয়। ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো থেকে আটলান্টাগামী সাউথওয়েস্ট এয়ারলাইনসের একটি উড়োজাহাজ থেকে এক বাবা ও তার মেয়েকে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ঘটনাটি ধারণ করা এক যাত্রীর দাবি ছিল, শিশুটি কান্নাকাটি থামিয়ে পাঁচ মিনিটের বেশি সময় ধরে শান্তভাবে বসে থাকার পরও উড়োজাহাজের কর্মীরা তাদের নামিয়ে দেওয়ার কথা জানান। পরে বিমান সংস্থাটি জানায়, ছোট শিশুকে সঙ্গে নিয়ে ভ্রমণ করা এক যাত্রীর সঙ্গে কর্মীদের কথোপকথন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল।
এর আগে ২০১২ সালেও একই ধরনের ঘটনায় একটি পরিবারকে উড়োজাহাজ থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পরে ওই পরিবার একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে বিমান সংস্থার বিরুদ্ধে মানবিকতার অভাবের অভিযোগ তোলে। সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাটি তখন জানায়, ওই যাত্রীরা দীর্ঘ সময় ধরে কর্মীদের নির্দেশনা মেনে চলেননি এবং সবার নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তাদের নামিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
কানাডার সাম্প্রতিক ঘটনাটি তাই শিশুদের উড়োজাহাজ ভ্রমণের সময় নিরাপত্তাবিধি কতটা কঠোরভাবে মানানো উচিত এবং এমন পরিস্থিতিতে অভিভাবক ও বিমান সংস্থার করণীয় কী হওয়া উচিত—সে প্রশ্নকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
/অ